
বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার না হলে আন্দোলনে যাবে পল্লীবিদ্যুৎ কর্মরতরা
- আপলোড সময় : ৩০-০৮-২০২৫ ১২:১০:৩৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩০-০৮-২০২৫ ১২:১০:৩৫ পূর্বাহ্ন


হয়রানিমূলকভাবে বরখাস্ত করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরখাস্তের আদেশ আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার না করলে আবারও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে সারা দেশের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান তারা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের লিখিত আশ্বাসে আরইবি-পিবিএস সিস্টেম সংস্কার আন্দোলন গত ৫ জুন স্থগিত করা হয়। এরপর বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে আরইবি-পিবিএস একীভূতকরণ অথবা অন্যান্য বিতরণ সংস্থার মতো কোম্পানি গঠনের সুপারিশ প্রণয়ন এবং সব চুক্তিভিত্তিক/অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ, মামলা প্রত্যাহারপূর্বক চাকরিচ্যুতদের স্বপদে পুনর্বহাল, সব সংযুক্ত ও সাময়িক বরখাস্ত করা এবং অন্যায়ভাবে বদলি করাদের পদায়নের লক্ষ্যে আলাদা দুটি কমিটিও গঠন করা হয়। এর আগে, গত বছরের ২৩ অক্টোবর সরকারের উদ্যোগে বিদ্যমান সংকট নিরসনের জন্য ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয়ের সভাপতিত্বে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির প্রতিবেদন তৈরি হলেও কোনো এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে তা আলোর মুখ দেখেনি। দীর্ঘ ৮ মাস পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্দোলন পরবর্তী সময়ে সরকারের নির্দেশনায় প্রতিবেদন জমা হলেও এখন পর্যন্ত জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া গঠিত উচ্চ পর্যায়ের দুটি কমিটির কার্যক্রমের তিন মাস অতিক্রম হলেও সহজে ও স্বল্প সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য কোনো বিষয়েরই দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় আবার সমিতির ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাঝে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তারা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের লিখিত আশ্বাসের পরও মামলার ক্ষেত্রে কোনো সংবেদনশীলতা না দেখিয়ে বিপরীতে গত ৬ আগস্ট জামিন বাতিল করে এক কর্মকর্তাকে আবআর গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া গত ২৪ জুলাই ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লাইনক্রুদের বদলির বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের কমিটির মাধ্যমে ল সুপারিশ করা হলেও এখন পর্যন্ত আরইবি তা বাস্তবায়ন করেনি। বিদ্যুৎ বিভাগের কমিটির কার্যক্রম চলমান অবস্থায় আরইবি-সমিতি যৌথভাবে সব কার্যক্রম যেমন স্টোর ইনভেন্টরি, কারিগরি সভা, উপকেন্দ্র ডিজাইন, টেন্ডার ওপেনিং ও মূল্যায়ন, সরকারি এজি অডিট, থার্ড পার্টি সিএ ফার্ম অডিট, সমিতির নিজস্ব ইন্টারনাল অডিট, মালামাল বরাদ্দ ও পরিবহন, ভার্চুয়াল সভাসহ সব প্রকার কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলমান থাকলেও আরইবির মাধ্যমে কিছু সমিতিতে বেনামি চিঠির তদন্ত ও হয়রানির উদ্দেশ্যে এবং মনিটরিং এর নামে ইন্টারনাল অডিট পরিচালনা শুরু করে; সমিতির পক্ষ হতে এই ধরনের হয়রানিমূলক কার্যক্রম না করার জন্য এর আগে অনুরোধ করা হয়েছিল। গত ৮ আগস্ট আরইবি-সমিতি-সেনাবাহিনীর প্রতিনিধির উপস্থিতিতে এরূপ হয়রানিমূলক অডিট কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও আরইবি’সে সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মনিটরিংয়ের নামে হয়রানিমূলক অডিট ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বারবার চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। আরইবি বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলেও বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অপরদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দমন-পীড়ন ও হয়রানির উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই গত ১৭ আগস্ট ৩ জন, ২৭ আগস্ট ৯ জন এবং ২৮ আগস্ট ৭ জন (বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত) কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং হয়রানিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। কথায় কথায় চাকরিচ্যুত, বরখাস্ত, সংযুক্তসহ এই ধরনের দমন-পীড়নের ফলে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে লাইন ক্রুদের বদলির বিষয়ে কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং সহজ এবং স্বল্প সময়ে নিষ্পত্তিযোগ্য বিষয়- বিশেষ করে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, যোগদান করতে না পারা ৫ লাইন ক্রুর বিষয় নিষ্পত্তি, সব হয়রানিমূলক বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনা, সাময়িক বরখাস্ত ও সংযুক্তদের পদায়ন, মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার ও লাইনশ্রমিকদের চাকরি নিয়মিতকরণ ইত্যাদি বিষয়ের আশু নিস্পত্তি প্রয়োজন। এমতাবস্থায় বরখাস্ত করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরখাস্ত আদেশ আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারসহ দমন-পীড়ন বন্ধ করার জন্য অনুরোধ জানান তারা। না হলে সারা দেশের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আবার কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ