বাংলাভাষী লোকজনকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে দেশছাড়া করতে দেব না- মমতা

আপলোড সময় : ২৮-০৮-২০২৫ ১০:৪৭:২০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৮-০৮-২০২৫ ১০:৪৭:২০ অপরাহ্ন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে বাংলাভাষী মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, আমরা প্রত্যেক বাংলাভাষীকে ‘বাংলাদেশি’ বলে হেনস্তা ও দেশছাড়া করতে দেব না। এই ধরনের কোনও চেষ্টা হলে আমরা তার জবাব দেব।
গত বুধবার তিনি এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিখ্যাত চলচ্চিত্র দ্য গডফাদারের সংলাপকে নিজের মতো ব্যবহার করে রাজ্যের বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, অন্য নথি ছুড়ে ফেলুন, আধার তুলে নিন। আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকার সম্ভাব্য সংশোধন নিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি আসলে এর আড়ালে বিতর্কিত জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) আইন চালু করার চেষ্টা করছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেত্রী বলেন, কেউ যদি জরিপ করতে আসে, কখনোই আপনার তথ্য দেবেন না। তারা আপনার বিস্তারিত তথ্য নেবে এবং নাম কেটে দেবে। আপনার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখুন, সেখানে নাম আছে কি না। আধার কার্ড রাখুন... এটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মমতার দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ৫০০টি দল মোতায়েন করেছে, যারা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম কেটে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেক বাংলাভাষীকে ‘বাংলাদেশি’ বলে হেনস্তা কিংবা দেশছাড়া করতে দেব না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ললিপপ সরকার (বিজেপিকে ললিপপ সরকার বলে ডাকেন মমতা) কর্মকর্তাদের ভয় দেখাচ্ছে। ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের চাকরি কেড়ে নেওয়া কিংবা কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন আসে এবং যায়... কিন্তু রাজ্য সরকার থেকে যায়।
মমতা বলেন, আমি নির্বাচন কমিশনকে সম্মান করি। কিন্তু আপনারা জানেন, ললিপপ খাওয়া শিশুদের জন্য ঠিক আছে। কিন্তু বড়রা যদি কোনও রাজনৈতিক দলের ললিপপ খায়, সেটা ঠিক নয়। আমি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কারও ভোটাধিকার কেড়ে নিতে দেব না। তিনি বলেন, আপনি মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন। গরিব মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ বলে নির্যাতন করছেন। কিন্তু গরিবরা আমার হৃদয়ে আছেন। আমি জাতপাত মানি না, আমি মানবতা মানি।
এর আগে, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও দেশটির নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, একজন মানুষেরও যদি ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে ১০ লাখ বাঙালি দিল্লি অভিমুখে পদযাত্রা করবে, রাজপথ ঘেরাও করবে।
বাংলা ভাষাকে অপমান করায় বিজেপির তীব্র সমালোচনা করে মমতা বলেন, তারা বাংলা ভাষাকে অপমান করছে। সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের এক চিঠিতে বাংলাকে ‘বাংলাদেশের জাতীয় ভাষা’ বলা হয়েছিল। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘যদি বাংলা না থাকে, তাহলে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গান কোন ভাষায় লেখা হয়েছে? স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার অবদান ভুলিয়ে দিতে চায় তারা। আমরা এই ভাষাগত সন্ত্রাস সহ্য করব না।
 

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক : সৈয়দ মোঃ আতিকুল হাসান।

নির্বাহী সম্পাদক আশীষ কুমার সেন।

ফোন : ৪৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স; ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪

অফিস :

প্রকাশক কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত।

সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।

ই-মেইল : [email protected], ওয়েবসাইট : www.dainikjanata.net