
বাংলাদেশের মূল সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বিগত কয়েক দশকে দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এখান দিয়ে পরিচালিত হয় প্রায় ৯০ শতাংশ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং, ফলে বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রিতা, অতিরিক্ত জাহাজজট এবং কর্মক্ষমতার সীমাবদ্ধতা প্রায় নিয়মিত ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প সমাধান হিসেবে উঠে আসছে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এই বন্দরটি দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলেও, সামপ্রতিক বছরগুলোতে এর আধুনিকায়নের কাজের গতি বেড়েছে। বিশ্বব্যাংক, জাইকা ও সরকারি অর্থায়নে ক্রেন স্থাপন, ইয়ার্ড সমপ্রসারণ এবং নৌপথ অবকাঠামোর উন্নয়ন এখন প্রায় সম্পূর্ণ পর্যায়ে। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সঙ্গে রাজধানী ও উত্তরাঞ্চলের সংযোগ সহজ হওয়ায়, এই বন্দরটি ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মোংলা বন্দরের গভীরতা এখনো বড় জাহাজের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়, আর এর দক্ষ অপারেশনাল সক্ষমতা গড়ে তুলতে প্রয়োজন প্রশিক্ষিত জনবল, দ্রুত কাস্টমস কার্যক্রম ও নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি। ব্যবসায়ীরা তখনই বন্দরটির প্রতি আগ্রহী হবেন, যখন এটি সময়, ব্যয় এবং নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে চট্টগ্রামের বিকল্প হিসেবে প্রমাণ দিতে পারবে। জাতীয় পর্যায়ে লজিস্টিকস পরিকল্পনায় মোংলাকে অন্তর্ভুক্ত করে, বাণিজ্য প্রবাহে ভারসাম্য আনা সম্ভব। চট্টগ্রামের চাপ কমাতে হলে বিকেন্দ্রীকরণ শুধু একটি কৌশল নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথ। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত মৃতপ্রায় বন্দরে পরিণত হয়েছিল মোংলা সমুদ্রবন্দর। সে সময় বন্দরটি অচল হয়ে পড়ার মূল কারণ ছিল বন্দরের বহির্নোঙর ও অভ্যন্তরীণ চ্যানেলে ড্রেজিং না করা। যার কারণে ওই সময়ে মারাত্মক নাব্য সংকট দেখা দেওয়ায় জাহাজ ভিড়তে পারতো না। মাসের পর মাস জাহাজশূন্য হয়ে অচলাবস্থা ছিল বন্দরজুড়ে। বন্দরের বহির্নোঙর ও অভ্যন্তরীণ চ্যানেলে নাব্য সংকটের কারণে কনটেইনারবাহী ৯ দশমিক ৫০ মিটার গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ বন্দরে সরাসরি প্রবেশ করতে না পারায় আমদানি-রফতানিতে ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারান। ২০২০ সালে ৭১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪ কিলোমিটার বহির্নোঙর ড্রেজিংয়ের কাজ শেষ হয়। এখন অভ্যন্তরীণ চ্যানেল দিয়ে বর্তমানে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ অনায়াসে আসা যাওয়া করছে। পরে বন্দর জেটিতে স্বাভাবিক জোয়ারে ৯ দশমিক ৫০ মিটারের অধিক গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ আনার জন্য বন্দরের ১৪৫ কিলোমিটার নৌ চ্যানেলের মধ্যে ৪৫ কিলোমিটার নৌপথ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারবে। এতে বন্দরের যেমন সক্ষমতা বাড়বে একই সঙ্গে নৌ চ্যানেলের নাব্যতা ফিরলে বড় জাহাজ ভিড়তে সমস্যা হবে না। এই পরিস্থিতিতে, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নৌ চ্যানেলের গভীরতা ঠিক রাখতে আবারও শুরু হচ্ছে খননকাজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্দরে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ভিড়তে পারবে। এ ছাড়া খননকাজ শেষ হলে পণ্য আমদানি-রফতানিতে গতি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ খননকাজে ব্যয় হবে এক হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা প্রধান মো. জহিরুল হক বলেন, নৌ চ্যানেল এই বন্দরের প্রাণ। সেই চ্যানেলকে রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য ইতিমধ্যে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি পাঁচ বছর মেয়াদে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করা হবে। এক হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নৌবাহিনী প্রকল্পের শেষ করবে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দরকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে নিয়মিত পশুর চ্যানেল ড্রেজিংয়ের বিকল্প নেই। প্রথমে বহির্নোঙর ড্রেজিং শেষ করে ২০২১ সালের ১৩ মার্চ অভ্যন্তরীণ ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই বন্দর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। এরই মধ্যে আমরা সেটা প্রমাণ করতে পেরেছি। তিনি আরও বলেন, এ বছর বন্দরে রেকর্ড সংখ্যক জাহাজের আগমন-নির্গমনের সঙ্গে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্দরকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করতে বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে কিছু প্রকল্প শেষ হয়েছে। কিছু চলমান রয়েছে। বর্তমানে পশুর চ্যানেলের অভ্যন্তরীণ ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে নাব্যতা সংকট নিরসনসহ গতিধারা বাড়বে। দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। জানা যায়, গত ২২ জুলাই মোংলা কাস্টমস হাউস পরিদর্শন করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। সেসময় তিনি বলেন, গত তিন মাস আমরা বাজেট নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। এখন মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র দেখতে চাই। মোংলা বন্দরের অবকাঠামো, সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা বোঝার পাশাপাশি এখানে কার্যক্রম কীভাবে বাড়ানো যায়, সেটিই আমাদের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, মোংলা কাস্টমস হাউসের অপারেশনাল সক্ষমতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে চাই। ব্যবসায়ীরা যেন এই সুযোগ নেন। চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবহারের তুলনায় মোংলা বন্দরের ব্যবহার অনেক কম। অথচ মোংলার ব্যবহার বাড়ালে চট্টগ্রামের ওপর চাপ কমবে, পোর্ট ডেমারেজ ও খরচ কমবে, এতে জনগণও উপকৃত হবে। তিনি আরও বলেন, যারা মোংলা বন্দর ব্যবহার করেন, তাদের সমস্যাগুলো শুনেছি। সেগুলোর সমাধানে কাজ করা হবে। পাশাপাশি কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাজের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা কেমন, তাও পর্যালোচনা করছি। গাড়ি আমদানিকারকদের সঙ্গে কয়েকবার বৈঠক হয়েছে, আরও হবে। যাতে সহজে সার্ভিস পান ও মোংলা বন্দর বেশি ব্যবহার করেন। এ সময় মোংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মু. সফিউজ্জামান বলেন, মোংলা কাস্টমস হাউসের সরকারি অফিস ও আবাসনের ব্যবস্থা নেই। এ বিষয়টি চেয়ারম্যান মহোদয়কে জানানো হয়েছে। লজিস্টিক সুবিধা বাড়ানো এবং বিদ্যমান সমস্যার সমাধান চাওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, মোংলা বন্দরে দ্রুত মালামাল খালাস হয় এবং চট্টগ্রামের তুলনায় পোর্ট ডেমারেজ কম। তাই ব্যবসায়ীদের এসব সুবিধার কথা জানানো হচ্ছে। এনবিআরের পক্ষ থেকে আমদানিকৃত সব গাড়ি মোংলা বন্দর দিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান বন্দর, কাস্টমস এবং ব্যবসায়ীদের সমস্যা সরেজমিনে দেখেছেন এবং সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মোংলা বন্দরের গভীরতা এখনো বড় জাহাজের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়, আর এর দক্ষ অপারেশনাল সক্ষমতা গড়ে তুলতে প্রয়োজন প্রশিক্ষিত জনবল, দ্রুত কাস্টমস কার্যক্রম ও নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি। ব্যবসায়ীরা তখনই বন্দরটির প্রতি আগ্রহী হবেন, যখন এটি সময়, ব্যয় এবং নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে চট্টগ্রামের বিকল্প হিসেবে প্রমাণ দিতে পারবে। জাতীয় পর্যায়ে লজিস্টিকস পরিকল্পনায় মোংলাকে অন্তর্ভুক্ত করে, বাণিজ্য প্রবাহে ভারসাম্য আনা সম্ভব। চট্টগ্রামের চাপ কমাতে হলে বিকেন্দ্রীকরণ শুধু একটি কৌশল নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথ। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত মৃতপ্রায় বন্দরে পরিণত হয়েছিল মোংলা সমুদ্রবন্দর। সে সময় বন্দরটি অচল হয়ে পড়ার মূল কারণ ছিল বন্দরের বহির্নোঙর ও অভ্যন্তরীণ চ্যানেলে ড্রেজিং না করা। যার কারণে ওই সময়ে মারাত্মক নাব্য সংকট দেখা দেওয়ায় জাহাজ ভিড়তে পারতো না। মাসের পর মাস জাহাজশূন্য হয়ে অচলাবস্থা ছিল বন্দরজুড়ে। বন্দরের বহির্নোঙর ও অভ্যন্তরীণ চ্যানেলে নাব্য সংকটের কারণে কনটেইনারবাহী ৯ দশমিক ৫০ মিটার গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ বন্দরে সরাসরি প্রবেশ করতে না পারায় আমদানি-রফতানিতে ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারান। ২০২০ সালে ৭১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪ কিলোমিটার বহির্নোঙর ড্রেজিংয়ের কাজ শেষ হয়। এখন অভ্যন্তরীণ চ্যানেল দিয়ে বর্তমানে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ অনায়াসে আসা যাওয়া করছে। পরে বন্দর জেটিতে স্বাভাবিক জোয়ারে ৯ দশমিক ৫০ মিটারের অধিক গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ আনার জন্য বন্দরের ১৪৫ কিলোমিটার নৌ চ্যানেলের মধ্যে ৪৫ কিলোমিটার নৌপথ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারবে। এতে বন্দরের যেমন সক্ষমতা বাড়বে একই সঙ্গে নৌ চ্যানেলের নাব্যতা ফিরলে বড় জাহাজ ভিড়তে সমস্যা হবে না। এই পরিস্থিতিতে, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নৌ চ্যানেলের গভীরতা ঠিক রাখতে আবারও শুরু হচ্ছে খননকাজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্দরে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ভিড়তে পারবে। এ ছাড়া খননকাজ শেষ হলে পণ্য আমদানি-রফতানিতে গতি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ খননকাজে ব্যয় হবে এক হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা প্রধান মো. জহিরুল হক বলেন, নৌ চ্যানেল এই বন্দরের প্রাণ। সেই চ্যানেলকে রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য ইতিমধ্যে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি পাঁচ বছর মেয়াদে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করা হবে। এক হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নৌবাহিনী প্রকল্পের শেষ করবে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দরকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে নিয়মিত পশুর চ্যানেল ড্রেজিংয়ের বিকল্প নেই। প্রথমে বহির্নোঙর ড্রেজিং শেষ করে ২০২১ সালের ১৩ মার্চ অভ্যন্তরীণ ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই বন্দর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। এরই মধ্যে আমরা সেটা প্রমাণ করতে পেরেছি। তিনি আরও বলেন, এ বছর বন্দরে রেকর্ড সংখ্যক জাহাজের আগমন-নির্গমনের সঙ্গে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্দরকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করতে বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে কিছু প্রকল্প শেষ হয়েছে। কিছু চলমান রয়েছে। বর্তমানে পশুর চ্যানেলের অভ্যন্তরীণ ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে নাব্যতা সংকট নিরসনসহ গতিধারা বাড়বে। দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। জানা যায়, গত ২২ জুলাই মোংলা কাস্টমস হাউস পরিদর্শন করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। সেসময় তিনি বলেন, গত তিন মাস আমরা বাজেট নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। এখন মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র দেখতে চাই। মোংলা বন্দরের অবকাঠামো, সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা বোঝার পাশাপাশি এখানে কার্যক্রম কীভাবে বাড়ানো যায়, সেটিই আমাদের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, মোংলা কাস্টমস হাউসের অপারেশনাল সক্ষমতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে চাই। ব্যবসায়ীরা যেন এই সুযোগ নেন। চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবহারের তুলনায় মোংলা বন্দরের ব্যবহার অনেক কম। অথচ মোংলার ব্যবহার বাড়ালে চট্টগ্রামের ওপর চাপ কমবে, পোর্ট ডেমারেজ ও খরচ কমবে, এতে জনগণও উপকৃত হবে। তিনি আরও বলেন, যারা মোংলা বন্দর ব্যবহার করেন, তাদের সমস্যাগুলো শুনেছি। সেগুলোর সমাধানে কাজ করা হবে। পাশাপাশি কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাজের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা কেমন, তাও পর্যালোচনা করছি। গাড়ি আমদানিকারকদের সঙ্গে কয়েকবার বৈঠক হয়েছে, আরও হবে। যাতে সহজে সার্ভিস পান ও মোংলা বন্দর বেশি ব্যবহার করেন। এ সময় মোংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মু. সফিউজ্জামান বলেন, মোংলা কাস্টমস হাউসের সরকারি অফিস ও আবাসনের ব্যবস্থা নেই। এ বিষয়টি চেয়ারম্যান মহোদয়কে জানানো হয়েছে। লজিস্টিক সুবিধা বাড়ানো এবং বিদ্যমান সমস্যার সমাধান চাওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, মোংলা বন্দরে দ্রুত মালামাল খালাস হয় এবং চট্টগ্রামের তুলনায় পোর্ট ডেমারেজ কম। তাই ব্যবসায়ীদের এসব সুবিধার কথা জানানো হচ্ছে। এনবিআরের পক্ষ থেকে আমদানিকৃত সব গাড়ি মোংলা বন্দর দিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান বন্দর, কাস্টমস এবং ব্যবসায়ীদের সমস্যা সরেজমিনে দেখেছেন এবং সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।