সুফল প্রজেক্টের বনায়ন

নিশ্চিত হচ্ছে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাস

আপলোড সময় : ৩০-০৮-২০২৫ ১২:০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-০৮-২০২৫ ১২:০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
পাহাড় ফের প্রাকৃতিক বনে পরিণত হচ্ছে। পাহাড়ি বনে বিলুপ্তপ্রায় গাছ লাগিয়ে করা হয়েছে দীর্ঘ মেয়াদী বন বাগান। ফলে সবুজে সবুজে ছেঁয়ে গেছে পাহাড়। কক্সবাজার উত্তর উখিয়া উপজেলার থাইংখালী ও দক্ষিণ বন বিভাগের ঈদগা মেহেরঘোনা  রেঞ্জের কালিরছড়া মিশ্র প্রজাতির দ্রুত বর্ধনশীল বাগান ঘুড়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিন কালিরছড়া বনাঞ্চলের সুফল প্রজেক্টের উপকার ভোগি সেলিম মিয়া (৫৫) জানিয়েছেন এক সময় বন নির্ভর স্থানীয়রা বন ধ্বংস করে জিবিকা নির্বাহ করতাম। বনের কাঠ কেটে বিক্রি করতাম সে টাকায় পরিবার চলাতাম। করেক বছর আগে স্থানীয় অধিবাসীদের নিয়ে বন কর্মকর্তারা সমিতি গঠনে সহায়তা করে আমাদের প্রত্যেককে সুফল প্রজেক্টের মাধ্যমে  ৭০ হাজার টাকা করে কিস্তিতে ব্যবসার জন্য গ্রহণ করে ছোট ব্যবসা শুরু করি। অপর দিকে খালি পাহাড়ে গাছের চারা রোপণ করে সুফল প্রজেক্ট।  আমরা স্থানীয়রা সেই গাছের চারা দল বেঁধে পরিচর্যা ও দেখা শোনা করতে থাকি। মাত্র প্রায় ৩ বছরেই সেইসব গাছের চারা অনেকটা বড় হয়ে সবুজে ভড়িয়ে তুলেছে পাহাড়। বন্য পরিবেশ ফিরে আসায় হাতি, হরিণ, বানর পাহাড়ে ফিরে এসেছে। তবে বর্তমানে জঙ্গল পরিস্কার করতে হবে তাহলে গাছগুলো আরো দ্রুত বড় হবে।
মেহেরঘোনা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, কালিরছড়া বনাঞ্চল এখন সবুজে ছেয়ে গেছে। বাগানে শীলকড়ই, আমলকি, বহেড়া, হরিতকি, চিকরাশি, ওলটকম্বল, অর্জুন, কাঞ্জলভাদি, জারুল, বকাইন, পিতরাজ, সোনালু, তেতুল, রক্তচন্দন, জলপাই, কৃষ্ণচূড়া, শিমুলসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির চারা রোপন করা হয়েছে। বাগানগুলো পরিচর্যার ফলে রোপিত চারাগুলো অত্যন্ত সতেজ ও সাবলীলভাবে বেড়ে উঠছে। মেহেরঘোনা রেঞ্জের পার্শ্ববর্তী রামুর জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জে ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ আর্থিক সনে সৃজিত ৮৭২ হেক্টর বাগানের আংশিক ঘুরে দেখা যায় সুফল প্রকল্পের আওতায় বাগান সৃজনে যেমন এক সময়ের ন্যাড়া পাহাড় সবুজে ভরে উঠছে তেমনি স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠির ব্যাপক কর্মস্থান হয়েছে বলে জানান জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম কবির উদ্দিন। কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ মারুফ হোসেন বলেন, ইটপাথরের দালানে কোথাও নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা নেই। প্রকৃতি আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। তাই যত বেশি বনায়ন হবে, তত বেশি পৃথিবীটা বাসযোগ্য হবে।
দক্ষিণ বন বিভাগ : টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগে ২০১৯-২০ আর্থিক সাল থেকে ২০২৩-২৪ আর্থিক সাল পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ৬৬৮ হেক্টর স্বল্প মেয়াদি, দীর্ঘ মেয়াদি, পশুখাদ্যের বাগানসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির বনায়ন করা হয়েছে। উক্ত বন বিভাগের উখিয়া রেঞ্জাধীন থাইংখালী বিটে ২০২০-২১ আর্থিক সনে সৃজিত ২২০.০ হেক্টর স্বল্প মেয়াদি দেশিয় প্রজাতির বাগান সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনকালে উল্লেখিত বাগানে বহেরা, কদম, শিমুল, চিকরাশি, হরিতকি, নিম, বকাইন, অর্জুন, ছাতিয়ান, জারুল, রাজ কড়ই, শীল কড়ই, আমলকি, গামার, কাঠবাদামসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় সৃজিত চারার উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছে। বাগানে জীবিত চারার সংখ্যা প্রায় ৯৭-৯৮% ও চারার গড় বৃদ্ধি ১৪-১৬ ফুট বলে প্রতিয়মান হয়েছে।
সুফল প্রকল্পের মাধ্যমে বাগান সৃজনের ফলে মূল্যবান বন্যহাতি, মায়া হরিণ, সরিসৃপ, পাখিসহ অন্যান্য প্রজাতির বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্যের যোগান নিশ্চিত হয়েছে। এরফলে সৃজিত বাগান এলাকার পাহাড়ে প্রায় প্রতিদিনই হাতির বিচরণ দেখা যায়। কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, সুফল প্রকল্পের মাধ্যমে বাগান সৃজনের ফলে একদিকে ন্যাড়া বা অবক্ষয়িত বনভূমিতে বিপন্ন বা বিলুপ্ত প্রায় দেশীয় প্রজাতি পুনরায় প্রকৃতিতে ফিরে এসেছে। অপরদিকে বনভূমি বেহাত হওয়ার থেকে রক্ষা পেয়েছে। যা প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কক্সবাজারে ন্যাড়া পাহাড় ও দখলমুক্ত জমিতে সবুজায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বনবিভাগ। কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. নূরুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গার বসতির কারণে গাছের ক্ষতি হয়েছে এবং যেইসব এলাকায় পাহাড় ন্যাড়া রয়েছে ওই জায়গাতে গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে।
দক্ষিণ বনবিভাগের ১০টি রেঞ্জে বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। ভারি বর্ষণের কারণে চারা রোপণে ব্যাঘাত ঘটে কিছুটা। কয়েকটি এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ন্যাড়া পাহাড় ও দখলমুক্ত জমিতে হরীতকী, আমলকী, গয়রা, গর্জন, চাপালিশ, তেলসুর, বৈলাম, সিভিট, জাম, চাপাতুল, কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন জাতের চারা গাছ লাগানো হয়।
দৃষ্টিনন্দন বনায়ন এখন পর্যটক-দর্শণার্থীদের কাছে বিনোদনের বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভ্রমণে আসা পর্যটকদের অনেকে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে সড়কের উভয় পাশের সবুজ বনায়নে কিছুক্ষণের জন্য প্রকৃতির অপার স্বাদ ও ছবি ধারণ করে নিচ্ছেন নিয়মিত।
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি, ফাসিয়াখালী, রাজঘাট, ঈদগাঁও, ঈদগড়, মেহেরঘোনা, বাঁকখালী, জোয়ারিয়ানালা ও সদর রেঞ্জের বিভিন্ন বিটে সুফল প্রকল্পের অধীনে বন নির্ভরশীলদের বননির্ভরশীলতা কমাতে বিকল্প জীবিকায়নের কাজ করছে বেশ কয়েকটি এনজিও।
সামাজিক বনায়ন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সহায়তা দিচ্ছে স্বনির্ভর হতে। বন বিভাগ অংশীদারদের খাদ্য, পশুখাদ্য, জ্বালানি, আসবাবপত্র ও মূলধনের চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়েছে। বন ও বনভূমি রক্ষায় নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বনকর্মীদের পাশাপাশি অংশীদাররাও। সৃজিত বনায়নগুলো দিনদিন বেড়ে উঠছে। আর যেসব বনায়ন পরিপূর্ণতা পেয়েছে তা কেটে নতুন বনায়ন করা হচ্ছে। এতে করে দেশের ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে, স্থানীয় জনগণও উপকৃত হচ্ছে। সরকারও আয় করছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। সামাজিক বনায়নের ফলে অংশীদার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ভূমিহীন, দরিদ্র, বিধবা ও দুর্দশাগ্রস্থ গ্রামীণ জনগণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত হচ্ছে।
 

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক : সৈয়দ মোঃ আতিকুল হাসান।

নির্বাহী সম্পাদক আশীষ কুমার সেন।

ফোন : ৪৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স; ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪

অফিস :

প্রকাশক কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত।

সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।

ই-মেইল : [email protected], ওয়েবসাইট : www.dainikjanata.net